২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

হাদারপার-বিছনাকান্দি বালু মহাল ‘স্বপন বাহিনী’র দখলে, দৈনিক ১০-১৫ লাখ টাকা লুটের মহোৎসব

admin
প্রকাশিত জুলাই ৮, ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ণ
হাদারপার-বিছনাকান্দি বালু মহাল ‘স্বপন বাহিনী’র দখলে, দৈনিক ১০-১৫ লাখ টাকা লুটের মহোৎসব

সিলেট ব্যুরো: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হাদারপার-বিছনাকান্দি বালু মহাল নিয়ে চরম নৈরাজ্য ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ইজারাদারকে এখনো বালু মহালটি বুঝিয়ে দেওয়া না হলেও, স্থানীয় প্রভাবশালী ‘শাহআলম স্বপন বাহিনী’র নেতৃত্বে অবৈধভাবে ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে দিন-রাত বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। ইজারা বহির্ভূত ও নিষিদ্ধ এলাকা থেকে এভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার খনিজ সম্পদ লুটে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হাদারপার-বিছনাকান্দি বালু মহালের ইজারা সম্পন্ন হলেও এখনো পর্যন্ত আইনগতভাবে তা ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অথচ এই সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের মূলহোতা শাহআলম স্বপনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শাহআলম স্বপন বাহিনীর প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ ড্রেজার ও বালু তোলার নৌকা পিয়াইন নদী ও বিছনাকান্দি সীমান্ত সংলগ্ন নদীপথের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এই সিন্ডিকেট প্রতিদিন শত শত বালু ও পাথর বোঝাই নৌকা থেকে অবৈধভাবে টোল ও চাঁদা আদায় করছে। দৈনিক এই আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার ব্যবহারের ফলে নদীর তলদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে ফসলি জমি, স্থানীয় বসতভিটা এবং পর্যটকদের আকর্ষণ বিছনাকান্দি জিরো পয়েন্ট।

সরকার যখন এই মহাল থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওয়ার কথা, তখন একটি নির্দিষ্ট চক্রের পকেটে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “স্বপন বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করলে মারধর ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এই অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছে বলে প্রকাশ্যেই হুঙ্কার দেয়।”

জানতে চাইলে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,”মহাল এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি ঠিকই, কিন্তু ড্রেজার দিয়ে বালু-পাথর ঠিকই দেদারসে তোলা হচ্ছে। প্রতিদিন ১০-১৫ লাখ টাকার বাণিজ্য হচ্ছে এখানে, যার কোনো হদিস সরকারি খাতায় নেই।”

একটি বৈধ মহাল বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই কীভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে ড্রেজার দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করা সম্ভব-তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করা হোক এবং ‘শাহআলম স্বপন বাহিনী’র বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে নদীর পরিবেশ ও সরকারি রাজস্ব রক্ষা করা হোক।
এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা অবিলম্বে জেলা প্রশাসক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।